কোরান্টাইনের দিনগুলোতে কাজে মন বসাবো কী করে? Banner Photo

Ω author: Sadia Tasmia

 18  2  2

করোনা ভাইরাসের মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এখন সারাদিনই আমাদের থাকতে হচ্ছে বাড়ীতে। স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে অফিস আদালত সবই বন্ধ হয়ে গেলেও এসবের কাজ কিন্তু বন্ধ নেই। বাড়ীতে থাকলেও যেমন অফিসের কাজও করতে হচ্ছে নিয়মিত, করতে হচ্ছে পড়াশোনাও। অনেকেরই অভিযোগ যে, বাড়ীতে কাজে মন বসে না। এত মানুষের মাঝে পড়া হয় না। খালি এদিক সেদিকে চোখ যায় কিংবা কাজের মাঝে মোবাইল ফোন গুঁতালেও, বলার কেউ নেই। কিন্তু কী করার! কাজ তো আর থেকে থাকবে না, তাই বাড়ীতে বসেই কাজে কিভাবে মন বসানো যায় তারই কিছু উপায় বলে দেয়া আছে এখানে। 

ফাইভ মোরঃ একটা কাজ করা শুরু করার ৩০ মিনিট পরে যদি আপনার বিরক্তি আসে, তবে তা ৩৫ মিনিট করার অভ্যাস করুন। অভ্যাস হয়ে গেলে ৪০ মিনিট এভাবে নিজেকে নিজের বিরক্তির মাত্রা থেকে খানিকটা আগে ঠেলে দিন। কনজেন্ট্রেট বইয়ের লেখক স্যাম হর্ন এই “ফাইভ মোর” এর প্রবক্তা। মানুষ যখন ভারোত্তোলন করে, তখন তারা কোন পর্যায়ে ক্লান্ত হচ্ছে সেদিকে লক্ষ্য রাখে এবং তার থেকে বেশী ভারোত্তোলন করার চেষ্টা করে। সময়ের সাথে সাথে এভাবে আপনি আরও ফোকাস করতে সক্ষম হবেন। 

অনেক পানি পান করাঃ পানি পান করা এক্ষেত্রে সাহায্য করে। মেজাজ এবং মনোযোগের উপর পানিশূন্যতার প্রভাব পরীক্ষা করার জন্য, গবেষকরা ৮১০ স্বেচ্ছাসেবককে চার ঘন্টা ধরে ৮৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা সহ্য করতে বাধ্য করেছিলেন। ৯০ মিনিটের পরে, তারা কাজের প্রতি কম উত্সাহী এবং বেশি উদ্বেগি গিয়েছিল। পরবর্তীতে, ১৮০ মিনিটের পরে, পানি পান করাতে তারা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে গিয়েছিল এবং কাজ করতে সক্ষম হয়েছিল। 

প্রকৃতির ছবি দেখুনঃ মনোবিজ্ঞানীরা মনোযোগ বাড়াতে প্রকৃতির কাছে হাঁটার পরামর্শ দিয়ে থাকে কিন্তু যেহেতু এখন বাড়ীর ভিতরে থাকতে হবে তাই প্রকৃতির ছবি বা ভিডিও দেখার চেষ্টা করুন।

ধ্যান করুনঃ মেরিনদের সাথে করা সমীক্ষা দেখিয়েছে যে যে সেনারা নিয়মিত ধ্যান করেছে, তারা তুলনামূলকভাবে বেশী মনোযোগী। একই ভাবে কলেজ ছাত্রদের সাথে করা এক সমীক্ষায় দেখা যায় যে, নিয়মিত ধ্যান তাদেরকে একটি কঠিন সেমিস্টারের মাঝে গভীর ভাবে মনোনিবেশ করতে সাহাযা করেছে।

প্রাথমিক নির্দেশাবলীঃ সোজা হয়ে বসে থাকুন এবং কমপক্ষে ১০ মিনিটের জন্য একটি টাইমার সেট করুন, এভাবে আপনার নিজে থেকেই আরও কিছু কাজ করতে ইচ্ছা হবে। চোখ বন্ধ করুন এবং নিজের শ্বাসের গতি লক্ষ্য করুন। খেয়াল করবেন যে যখনই আপনার মন এই গতি থেকে আপনার শ্বাসই আবার তাকে ফিরিয়ে আনবে। অমনোযোগী হওয়ার জন্য বিরক্ত হবেন না। এটা স্বাভাবিক. প্রকৃতপক্ষে, মানুষের মন ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ সময় পর্যন্ত "অফ-টাস্ক" এ ঘোরাঘুরি করে। এই অনুশীলনের মূল বিষয় হল আপনার মন সরে গেলেও তাকে জায়গামত ফিরিয়ে আনার অভ্যাস বিকাশ করা।

নিজের সেরা সময় বের করুনঃ সংগীত শিল্পী মিনার একবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিল যে, তিনি সবসময় ফজরের আজানের পরপর গান লিখতে এবং সুর দিতে বসেন কারণ তখন তাঁর মাথা একদম পরিষ্কার থাকে। আপনার জীবনধারার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আপনার কাজকে ফিট করার চেষ্টা করুন। যদি আপনি ভোর বেলার উঠতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তবে আপনার সৃজনশীল বা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সকাল সকাল করুন। আপনার বাজে সময়ের জন্য সহজ কাজগুলি সংরক্ষণ করুন। আপনার যদি অনেক রাত জাগার অভ্যাস থাকে, তবে রাতে জরুরী কাজগুলো করুন। 

এক সময় একটা কাজঃ একবারে দুটি কাজ করার চেষ্টা করবেন না। না, আপনার একজন দুর্দান্ত মাল্টি-টাস্কার হবার প্রয়োজন নেই। প্রায়শই লোকেরা মনে করে যে, মাল্টি টাস্কিং করে তারা দক্ষ হচ্ছে যা একদম ভুল ধারণা বরং এতে করে কাজের গতি ধীর হয়ে যায় আর কাজে ভুল বেশী হয়। 

অনেক মনোযোগ দরকার এমন কাজের জন্য প্রস্তুত হোনঃ আপনার ইমেল, ফেসবুক এবং টুইটার বন্ধ করুন এবং কোনও প্রকল্পে কাজ শুরুর করার আগে আপনার ফোনটি সাইলেন্ট মোডে রাখুন।

কোনো মজাদার কাজের জন্য কিছু সময় নিনঃ আপনি বিরক্ত বোধ করলে, আপনি আরও বেশি বিভ্রান্তি প্রবণ হবেন। তাই আপনার যে কাজটা এখন করতে হবে তা বাদ দিয়ে আপনার মনোযোগ প্রয়োগ করুন আপনি যে কাজগুলো একপাশে রেখেছেন বা শুরু করেননি এবং মজার কোনো কাজে। আপনি যখন এমন কিছু করতে সময় ব্যয় করেন যা আপনি বেশ উপভোগ করেন তখন আপনার সামগ্রিক পারফরম্যান্সেও খুব উন্নতি হতে পারে। আপনি যখন কোনও একঘেয়ে কাজের মাঝখানে থাকেন, তখন মজাদার ক্রিয়াকলাপের জন্য নিজেকে কিছুটা বিরতি দিন। 

আপনার সুবিধার জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করুনঃ মনোযোগ নষ্ট করে এমন ওয়েবসাইটগুলোকে অবরুদ্ধ করা থেকে শুরু করে আপনি ওয়েবের সার্ফিংয়ে কতটা সময় ব্যয় করেন তা পর্যবেক্ষণ করার জন্য, অনেক অ্যাপ্লিকেশন আছে যা আপনাকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতে সহায়তা করতে পারে। আবার এমন এ্যাপ্ব আছে যা আপনাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করবে। একবার আপনার ওয়েব সার্ফিং এর অভ্যাসগুলি চিহ্নিত করার পরে, এমন একটি এ্যাপ বাছাই করুন যা আপনাকে আপনার লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে। 

মনে রাখবেন, কাজের প্রতি যতই অমনোযোগ আসুক না কেন, বাইরে কিন্তু বের হওয়া যাবে না। আপনার একটু ধৈর্য অনেক বড় মহামারী থেকে এ দেশকে রক্ষা করতে পারে।

Share On Facebook

please login to review this blog and to leave a comment.


More From PlexusD

এবারের ডেঙ্গু কেনো অন্যবারের চেয়ে আলাদা?

published on: 22 Jul, 2019

এবারের ডেঙ্গু কেনো আলাদা?: এবারের ডেঙ্গু জ্বরের সাথে আগের মিল নেই। নতুন কোন শক্তিশালী ডেঙ্গু ভাইরাস দিয়ে ছড়ানো এই অসুখ এবার ঢাকায় রীতিমতো মহামারি ...

 6382    2    0 
ডেঙ্গুঃ কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার এবং প্রতিরোধ!

published on: 21 Jul, 2019

এই বর্ষায় বৃষ্টির সাথেখিচুড়ি তাে উপভােগ করবেনই, তবে আপনারা যাতে সুস্থতার সাথেতা করতে পারেন তাইগুরুত্বপূর্ণ এক...

 1756    2    0 
ডায়াবেটিস নিয়ে মানুষের যত ভুল ধারণা!

published on: 10 Jul, 2019

বাংলাদেশে ২০৩৫ সালের মধ্যে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে ১২৩ মিলিয়নে! নগরায়ন ও শ...

 1718    4    1 

More From Happy Life

কোন সমস্যায় কোন ডাক্তারের কাছে যাবেন || পর্ব ০২ ||

author: Sadia Tasmia

প্রথমবারের মত কোনো রোগের উপসর্গ দেখা গেলে সবার প্রথমেই আমরা যেই ব্যাপারটা নিয়ে সবচেয়ে বেশী চিন্তায় পড়ি তা হচ্ছে, কোন ডাক্তারের কাছে যাব! পেটে ব্যথা হচ্ছে

 1467    1    1 
বিয়ের আগেই হোক থ্যালাসিমিয়া পরীক্ষা!

author: Sadia Tasmia

থ্যালাসেমিয়া একটি জেনেটিকাল রক্তের ব্যাধি যা শরীরটি হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতা তৈরি করে। হিমোগ্লোবিন ...

 1143    1    0 
কোন সমস্যায় কোন ডাক্তার দেখাবেন || পর্ব ০১ ||

author: Sadia Tasmia

প্রথমবারের মত কোনো রোগের উপসর্গ দেখা গেলে সবার প্রথমেই আমরা যেই ব্যাপারটা নিয়ে সবচেয়ে বেশী চিন্তায় পড়ি তা হচ্ছে, কোন ডাক্তারের কাছে যাব! পেটে ব্যথা হচ...

 716    2    0